ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ শুরুর পর এই প্রথম পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়ে এসেছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কতটা সীমিত হয়ে পড়েছে, ঘটনাটি তারই একটি বিরল দৃষ্টান্ত। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
মেরিন ট্রাফিকের জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘শালামার’ নামের ওই জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওমান উপসাগরের দিকে রওনা হয়। জাহাজটির গন্তব্য করাচি বলে জানা গেছে।
গত সোমবার থেকে মার্কিন অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল নিয়ে বের হওয়া এটিই প্রথম কোনো ট্যাংকার। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মালিকেরা যখন দুশ্চিন্তায় আছেন, তখনই ঘটনাটি ঘটল। এর আগেও অবশ্য অবরোধ এড়িয়ে আরও কিছু ট্যাংকার প্রবেশ করেছে বা বের হয়েছে। তবে সেগুলোতে তেল ছিল কি না নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে এশিয়ার আমদানিকারকেরা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার যে চেষ্টা করছেন, তার একটি লক্ষণ দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে তাদের একটি ট্যাংকার লোহিত সাগর পার হয়েছে। হরমুজ অবরোধের পর এটিই তাদের প্রথম তেলের চালান।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাহাজটি নিরাপদভাবে লোহিত সাগর ত্যাগ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সামান্য বাড়লেও প্রতিদিন হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ যাতায়াত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ অবরোধের আওতায় পারস্য উপসাগর থেকে তেল বা অন্যান্য পণ্য বের করতে জাহাজ মালিকদের এখন ইরান এবং আমেরিকা—উভয় পক্ষের অনুমতি নিতে হচ্ছে। এর ফলে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানি নয়, এমন তেল নিয়ে বের হতে পারলেও গত সাত সপ্তাহে খুব সামান্য পরিমাণ পণ্য এই জলপথ পাড়ি দিয়েছে। এমনকি অবরোধ আরোপের আগেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ‘শালামার’ নামের জাহাজটি প্রথমে গত রোববার উপসাগরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সেটি ফিরে আসে। পরে জাহাজটি আবার রওনা দিয়ে দাস দ্বীপে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে তেল নিয়ে বৃহস্পতিবার পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত তিন দিনে অন্তত ১৪টি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। এতে বোঝা যায় যে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক জাহাজের মালিক এই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। জানা গেছে, এই অবরোধ ওমান উপকূলের রাস আল হাদ্দ থেকে শুরু করে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।