ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, দেশটির মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তারা। স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটিকে নিশানা করা হয় বলে দাবি হুতিদের। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো এই দাবির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে অভিযান চালানোর সময় বিমানটি ভূপাতিত করা হয়। তাঁর দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এফ-১৫ বিমানটিকে আঘাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে প্রায় ৪৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার সৌদির অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন সারি। তিনি দাবি করেন, তাঁদের সামরিক অভিযান পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।
হুতিদের দাবি সত্য হলে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারানোর সংখ্যা আরও বাড়ল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল হারানোর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি বিমান নিজেদের পক্ষের গুলিতে ও একটি ইরানি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত হয়।
সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি সৌদি এফ-১৫ বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু নিহত হন। একই বছর জুলাইয়েও কিং খালিদ বিমানঘাঁটির কাছে প্রশিক্ষণের সময় একটি এফ-১৫ এসএ বিধ্বস্ত হয়ে দুই আরোহী নিহত হন।
এফ-১৫ এসএ হলো ম্যাকডোনেল ডগলাসের এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই আসনের একটি সংস্করণ। এটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং সৌদি বিমানবাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। সিঙ্গাপুরের এফ-১৫ এসজি ও দক্ষিণ কোরিয়ার এফ-১৫কে সংস্করণের বিভিন্ন প্রযুক্তি এতে যুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ছাড়াও ইসরায়েল ও কাতারের বিমানবাহিনী স্ট্রাইক ইগল পরিচালনা করে।