প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর আজ থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নাবিকদের জন্য ইস্যু করা এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে এবং এটি সব ধরনের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (১৩ এপ্রিল) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ওই বিশেষ বার্তাটি দেখার সুযোগ পেয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যদি অবরোধ করা এলাকায় প্রবেশ করে বা ওই এলাকা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে পথিমধ্যে বাধা দেবে, গতিপথ পরিবর্তন অথবা জব্দ করবে।’
তবে এই অবরোধের ফলে সাধারণ জাহাজ চলাচলে পুরোপুরি বিঘ্ন ঘটবে না। সেন্ট্রাল কমান্ডের বার্তা অনুযায়ী, যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান বাদে অন্য কোনো দেশে যাতায়াত করবে, তাদের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। এ ছাড়া খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পাবে।
যদিও নিরপেক্ষ জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পাবে, তবে মার্কিন নৌবাহিনী যেকোনো সময় সেগুলো তল্লাশি করতে পারবে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ পণ্য রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতেই তারা তল্লাশি চালাবে। একইভাবে মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজগুলোকেও নির্দিষ্ট তদারকি ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্য এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করতেই এই অবরোধের জাল বিছিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এই জলপথে মার্কিন নৌবাহিনীর এমন কঠোর উপস্থিতি বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।