ইয়েমেনে নিজেদের প্রভাব আরও সুসংহত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম বহনকারী একটি ফ্লাইট চলতি মাসে ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। রয়টার্সের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের এই পদক্ষেপ লোহিত সাগরে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চলতি মাসে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে চারটি সূত্র। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান লোহিত সাগরে নৌপরিবহনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তাদের হুতি মিত্রদের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চাইছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
দুই ইরানিসহ অবগত চারটি সূত্র, ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী এবং এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে ইয়েমেনে যাওয়া একটি ফ্লাইটে আইআরজিসি সদস্য এবং সামরিক-সম্পর্কিত সরঞ্জাম স্থানান্তর করা হয়। এর আগে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
দুই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মাহান এয়ারের ওই ফ্লাইটে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিমানটি মূলত হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে ইয়েমেন সরকারের হামলার মুখে বিমানবন্দর আক্রান্ত হওয়ায় সেটি গতিপথ পরিবর্তন করে লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরনগরী হোদেইদায় অবতরণ করে।
সূত্রগুলোর একজন বলেন, ‘আইআরজিসি কমান্ডাররা সেখানে হুতিদের অভিযানে সহায়তা করতে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছিলেন।’ তিনি আরও জানান, হুতিদের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য ইরান ওই বিমানে স্বর্ণও পাঠিয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে দুই ইরানি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
এই মোতায়েন ইরানের হুতিদের শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার নতুন প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হুতিরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে যে তারা ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনকে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দিয়ে সহায়তা করে। হুতি গণমাধ্যমের কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি দাবি করেছেন, তিনি ওই বিমানে ছিলেন। তিনি ইরান ইয়েমেনে সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, বিমানে থাকা সব যাত্রীই ছিলেন বেসামরিক।
হুতিরা অতীতেও নিজেদের ইরানের প্রক্সি বা প্রতিনিধিত্বকারী বাহিনী হিসেবে অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে তারা নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করে।