ইয়েমেন সরকারকে তাদের সরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে সহায়তার জন্য ২২ কোটি ২৪ লাখ সৌদি রিয়ালের (প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের গতকাল শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত আল-জাবের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো ইয়েমেন সরকারের বর্তমান বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করা এবং রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অর্থায়ন ইয়েমেন সরকারের আর্থিক প্রবাহ বজায় রাখতে এবং বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি এই তহবিল ইয়েমেনি রিয়ালের মান স্থিতিশীল রাখতে, মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
রাষ্ট্রদূত আল-জাবের আরও জানান, সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘সৌদি প্রোগ্রাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অব ইয়েমেন’ বা এসপিডিআরওয়াই-এর মাধ্যমে এই বিশেষ তহবিলটি বিতরণ করা হয়েছে।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সহায়তার এই ঘোষণার ঠিক আগে ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি প্রদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের তেল সরবরাহের জন্য রিয়াদ-ইয়েমেন সরকারের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের এই জ্বালানি তেল সরবরাহ চুক্তিটি মূলত ইয়েমেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এসপিডিআরওয়াই অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্যতম বৃহত্তম সমর্থক দেশ হলো সৌদি আরব। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে জনসেবা চালু রাখা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া গতিশীল করার লক্ষ্যে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে।