হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

৫৬০ সেনা হতাহতসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিল ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরান হামলা চালিয়ে কাতারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে। ছবি: আইআরজিসি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় কার্যালয় ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে (পুরো ইসরায়েলে) ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর বন্ধ হবে না। ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জারি করা হয়েছে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ। পাশাপাশি দাবি করেছে, ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫৬০ জন সেনা হতাহত হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানি সশস্ত্রবাহিনীর কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি ইরানের চলমান অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ ’-এর হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসন এবং ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর এই অভিযান শুরু হয়। ইরান এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

জোলফাঘারি বলেন, অভিযানের দশম ধাপে ইরানের খেইবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় তেল আবিবে অবস্থিত অপরাধী শাসনব্যবস্থার সদর দপ্তরে। পাশাপাশি হাইফার সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্র এবং পূর্ব আল-কুদসের একাধিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে—দখলদার শত্রুদের ঘাঁটিতে হামলার পরিসর আরও বাড়ানো হবে। ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন কখনোই থামবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানান। সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা কেন্দ্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

এর আগে অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪-এর অংশ হিসেবে ইরানি বাহিনী চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে। এতে বিমানবাহী রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যেতে বাধ্য হয় বলে তিনি জানান। জোলফাঘারি আরও বলেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলি আল-সালেম ঘাঁটি অচল হয়ে পড়েছে। আরব দেশটিতে মার্কিন নৌ কাঠামোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই সময়ে চারটি ইরানি ড্রোন বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আঘাত হানে। এতে কমান্ড ও সহায়তা বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মালিকানাধীন তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়।

বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি ঘাঁটিতে দুটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। জোলফাঘারি আরও বলেন, ইরানি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সফলভাবে বোমাবর্ষণ করেছে। তাঁর দাবি, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত ৫৬০ মার্কিন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বিনা উসকানিতে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী বিমান হামলায় অন্তত ৫৫৫ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এরপর ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কমান্ড সেন্টার, সদর দপ্তর ধ্বংস ও গোয়েন্দাকেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের

নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের, সহায়তার ‘অবস্থায় নেই’ ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস

কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, সৌদিতে বন্ধ কানাডার

হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকে আছে ৭ শতাধিক জ্বালানি ট্যাংকার

সৌদি তেল শোধনাগারে হামলা ‘ফলস ফ্ল্যাগ’, নেপথ্যে ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের লেলিয়ে দিতে চান ট্রাম্প, হয়েছে আলোচনাও

ইরানকে ১০ বছর পরমাণু জ্বালানি কেনার টাকা দিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর থামবে না—ইরানের হুঁশিয়ারি

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে জোড়া ড্রোন হামলা, প্রতিশোধের হুমকি ট্রাম্পের

বাহরাইন বন্দরে মার্কিন পতাকাবাহী তেলের জাহাজে আগুন