মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে স্থানীয় সময় আজ সকালের দিকে তথাকথিত ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরান বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয়ে এবং কুয়েতে হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী ‘সফলভাবে ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে’।
সেন্টকমের ভাষ্য, তাদের হামলার আগে ইরান ‘আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল’, তবে সেগুলোর কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। সেন্টকম বলেছে, ‘কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত হয় অথবা মাঝপথে ভেঙে পড়ে। আর বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করে।’
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কেশম শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ইরানের আধা সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত গোলাগুলির একটি ঘটনাক্রম প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির ভাষ্য, ঘটনাটির সূত্রপাত হয়—মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় এবং জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে। এরপর তারা নৌ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি মার্কিন-ইসরায়েলি জাহাজে হামলা চালায়।
এরপর মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত আইআরজিসির একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায়। আইআরজিসির দাবি, এরপর তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তর এবং ‘অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থানরত’ হেলিকপ্টারও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম আইআরজিসির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আইআরজিসির এই দাবি ‘মিথ্যা’। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমেরিকান বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সব হামলাই ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরানের যেকোনো অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় প্রস্তুত।’
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ‘ইরানের এক ঝাঁক ড্রোন’ কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা সেন্টকম বলেছে, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে কোনো মার্কিন সেনাসদস্য বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।’