ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মধ্যে ছয় বিলিয়ন ডলার শিগগির মুক্ত করে দেশটির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আজ সোমবার (২৯ জুন) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিতে (ইরনা) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাতারে থাকা ইরানি সম্পদের অর্ধেক ছাড়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘ইরানি জনগণের জন্য একটি বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এতে চলমান অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির প্রতি আস্থা আরও জোরদার হবে।
তবে কাতার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মধ্যে এই ঘোষণা এসেছে। কাতার দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে সপ্তাহান্তে পারস্য উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘কিকু’ গত শনিবার ইরানি হামলার শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে নিতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওই হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর টিকে থাকবে না’।
এর মধ্যেই গতকাল রোববার ইরান বাহরাইন ও কুয়েতের দিকেও নতুন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং তেহরানের ধারাবাহিক আগ্রাসী নীতির অংশ।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের জ্যেষ্ঠ আলোচক কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, দোহায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এখনো নিশ্চিত নয়।