হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ করতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম। গতকাল বুধবার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসে পেন্টাগনের একটি গোপন ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ইরান জলপথটির ভেতরে ও আশপাশে ২০টিরও বেশি মাইন পেতে থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু মাইন জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে মোতায়েন করা হয়েছে, যা সেগুলো শনাক্ত করা আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই মূল্যায়ন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। কারণ এতে ইঙ্গিত মিলছে, সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব—বিশেষ করে তেল ও জ্বালানির উচ্চমূল্য—বছরের অনেকটা সময়জুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান হয়তো মাইনগুলো সরিয়ে ফেলেছে বা সরিয়ে নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অধিকাংশ ‘মাইন ড্রপার’ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রোপাগান্ডা বলে উল্লেখ করেছে। যদিও ইরানি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী–আইআরজিসি ওই এলাকায় নিরাপদ নৌপথের মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
প্রণালীটিতে ইরানের মাইন পাতা নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় মার্চের শুরুর দিকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, বড় জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর ছোট নৌযান ব্যবহার করে এসব মাইন মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং হোয়াইট হাউস সব প্রশ্ন পেন্টাগনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।