হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সঙ্গে ফের যুদ্ধে জড়ানোর ঘোষণা ইসরায়েলের, যুক্তরাষ্ট্রের না

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে প্রয়োজন হলে ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নতুন করে ইসরায়েলকে জড়াতে আগ্রহী নয়।

ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর নতুন পাইলটদের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। নিজের বক্তব্যে ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘এখনও শেষ হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনার খাতায় নতুন নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের সামনে এখনও বড় বড় সামরিক অভিযান অপেক্ষা করছে। প্রস্তুত থাকুন।’

নেতানিয়াহুর বক্তব্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি নতুন পাইলটদের বলেন, যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে অবস্থান করবে। তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের আমাদের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আমরা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করব।’

লেবানন দাবি করছে, আগামী সপ্তাহে রোমে নির্ধারিত পরবর্তী দফার সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবাননের দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী বজায় রাখবে।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু আবারও তাঁর বহুবার উচ্চারিত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের জন্য ‘একটি অসাধারণ শক্তিবর্ধক’ হিসেবে কাজ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, নেতানিয়াহু পরোক্ষভাবে তাঁর সেই ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি ন্যাটো সদস্য এবং ইসরায়েলের অন্যতম কড়া সমালোচক তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চান।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি। পুরোনো চ্যালেঞ্জগুলোর পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। পুরোনো অক্ষগুলো ভেঙে পড়ছে, নতুন অক্ষ গড়ে উঠছে। আমরা প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা একটি বিষয় জানি, আমাদের সব সময় আমাদের শত্রুদের চেয়ে শক্তিশালী থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অন্যতম ভিত্তি। একই সঙ্গে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতায় এই সপ্তাহে তিনি যে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তাঁর বক্তব্যে সেটিরই পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনবল ও প্রযুক্তিকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার মাধ্যমে এই সক্ষমতা ধরে রাখছি।’

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ জোর দিয়ে বলেন, আইডিএফ ‘ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য সতর্ক এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ তিনি নতুন পাইলটদের বলেন, প্রয়োজন হলে সামরিক বাহিনী আবারও আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইসরায়েলি অভিযান চালিয়ে ইরানের হুমকি দূর করতে প্রস্তুত। এমনকি ‘তৃতীয়বারের মতো’ও হামলা চালানো হতে পারে। কাৎজ বলেন, ‘যদি আমাদের (যুদ্ধে) ফিরে যেতে হয়, তাহলে আমরা আরও অনেক বেশি শক্তি নিয়ে ফিরে যাব।’

বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। ইসরায়েলের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, তিনি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। আলোচনার সময় নেতানিয়াহু আবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যগুলোর প্রসঙ্গ তোলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এরদোয়ানের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগও তিনি তুলে ধরেন।

এদিকে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ বৃহস্পতিবার রাতে জানায়, ইসরায়েল এমন সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে যে—ইরান তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণ করে সেই সব ইসরায়েলি ঘাঁটিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যেখান থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান পরিচালিত হয়েছে। এসব ঘাঁটির মধ্যে নেভাতিম এবং রামোন বিমানঘাঁটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আইডিএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নতুন করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী হলেও, চ্যানেল ১২ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, ওয়াশিংটন এই সংঘাতে জেরুজালেমকে আবারও সরাসরি টেনে আনতে আগ্রহী নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প খুব শিগগিরই তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন, যেখানে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।

গণহত্যা থেকে বাঁচতে ব্রাজিলে পাড়ি, গণিত অলিম্পিয়াডে গাজার কিশোরীর স্বর্ণপদক জয়

মেসি নন, অন্য কারণে আর্জেন্টিনার সমর্থক নেতানিয়াহু, জানালেন নিজেই

ইরানে হামলার পর এবার ফের উত্তেজনা হ্রাসে মনোযোগ ট্রাম্পের

খামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সী ইমাম

মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

খামেনির দাফনে লাখো মানুষ, প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর মাশহাদ

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দুই দিনে ১৭০ ইরানি স্থাপনায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, নিহত ১৪

রাফাহ থেকে গাজা শাসন শুরুর পরিকল্পনা বোর্ড অব পিসের, ‘মানবিক অঞ্চলের’ ইঙ্গিত