ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ এমন পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো উপায়। গতকাল রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মনে করেন, দেশের মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এই সমঝোতাই সম্ভব সেরা চুক্তি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই চুক্তির এমন একটি ধারাও নেই, যা আত্মসমর্পণের সমান। সর্বোচ্চ নেতা নীতিনির্ধারণ করেন এবং আমরা সেই পথই অনুসরণ করব।’ এই চুক্তিটি ‘সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের উচ্চাভিলাষী সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে সেই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। তবে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্নে কোনো সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী নৌবাণিজ্যের জন্য এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তেহরান তার প্রতিপক্ষের সামনে পিছু হটবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি এই সমঝোতার সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টিও যুক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘পুঁজি ও অর্থ ঝুঁকির ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমাদের দেশ থেকে এই ঝুঁকি দূর করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর ইরানের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা এবং একটি নৌ অবরোধের কারণে দেশটির সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য তেল রপ্তানি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এ দিকে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন কট্টরপন্থী প্রধান মোহসেন রেজায়ি দেশটির প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছেন, যাতে তারা ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগে যোগ না দেয়।
শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যদি কিছু করতে চান, তাহলে আমরা ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী জবাব দেব।’ চলতি মাসে মোহসেন রেজায়িকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে পরিবর্তনকে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান আরও কঠোর করার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটিই ওই পদে নিয়োগের পর রেজায়ির সবচেয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্য বক্তব্য।