ইরান তাদের মজুত করা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক ধূলিকণা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত বছরের জুনে তিনটি প্রধান ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকেই ট্রাম্প ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় ইরান এই শর্তে রাজি হয়েছে কি না, তা তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে আর কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে পুঁতে থাকা এই পারমাণবিক ধূলিকণা খনন করে সরিয়ে ফেলার কাজ করবে।
উল্লেখ্য, বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো হামলায় এই সম্পদগুলো মাটির নিচে চাপা পড়েছিল।
গত বছরের জুনে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম এবং ২০০ কেজির মতো ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ফিসাইল ম্যাটেরিয়াল ছিল। এই উপাদানগুলো খুব সহজে ৯০ শতাংশ বা যুদ্ধাস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা সম্ভব।
ইরান দাবি করে আসছে, তাদের এই কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য। তবে তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০৪১ সালের মধ্যে ২০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে তাদের একমাত্র সচল কেন্দ্র বুশেহর মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশের মোট উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ।
জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির জ্বালানি কৌশলবিদ উমুদ শোকরি জানান, ইরানের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের মজুত থাকায় পারমাণবিক শক্তির চেয়ে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
কোথায় চাপা পড়ে আছে এই ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো মূলত ইস্পাহানের একটি ভূগর্ভস্থ টানেল এবং নাতানজ কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত বছরের হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সেন্ট্রিফিউজ এবং নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচিই এখন প্রধান বাধা। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। তাই ভবিষ্যতে অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি কোনো বড় ব্রেকথ্রু বা সাফল্য নয়। তেহরান যদি তাদের বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়, তবে তা হবে একটি বিশাল ছাড়। যদিও ইরানের পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকলে এই সাফল্যের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।