যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আংশিক যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ গ্রহণ করলেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে গোলাবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার (১ জুন) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষই গুলি বিনিময় বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি।
লেবাননের সরকার জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালাবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের শহর ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালাতে থাকে, তাহলে বৈরুতেও হামলা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা অভিযানও চলবে।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে হিজবুল্লাহ দাবি করে, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের হাদ্দাথা ও বায়াদা এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল তারা আকাশেই প্রতিহত করেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েল হামলা করেছে এবং দ্যাব্বিন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে লেবানন ইস্যুতে ইরান খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য। কোনো এক ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে তা পুরো চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের মধ্যে গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইসরায়েলে রকেট হামলা করলে লেবানন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর লেবাননজুড়ে বিমান হামলা এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৪৩৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের ২৫ সেনাসদস্য ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও মাটির বাস্তবতায় সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।