যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তান সরকারের কাছে নিজেদের দাবি ও শর্তের তালিকা জমা দিয়েছে ইরান। আজ শনিবার ইসলামাবাদে দিনভর বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি এখন তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভিদ পাকিস্তান থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে তেহরানের সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং দাবিগুলো পাকিস্তানের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়ে তেহরানের বিভিন্ন দাবি ও শর্তের কথা তুলে ধরেন।
এদিকে, বৈঠকের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ‘উষ্ণ ও আন্তরিক মতবিনিময়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমরা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে।’
তেহরান থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদ ত্যাগের আগে যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের ‘নীতিগত অবস্থান’ এবং ‘দাবি’ সংবলিত তালিকাটি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান এখন এই প্রস্তাবগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আজই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যদিও ইরান আগে থেকেই আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে, তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে এই পরোক্ষ কূটনীতি যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।