ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনীকে সরাসরি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদুলু এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি সেনা ব্যারাকে ওই হামলায় অন্তত সাত সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের বাম্পুর শহরে ইরানি স্থলবাহিনীর একটি ব্যারাকের আবাসিক এলাকা ও সেনা সদস্যদের থাকার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ইরানি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাত সদস্য নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের সেনাবাহিনী একে ‘যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ জুন শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলা কিংবা ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এর আগে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
এদিকে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বুধবার বলেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দক্ষিণ ইরানে ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরে না এলে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হওয়ার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।