হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের বিক্ষোভে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা চালানো হয়: অ্যামনেস্টি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে হিজাব আইন ভঙ্গের অভিযোগে নীতি পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ২০২২ সালের নারী-নেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে হত্যা, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ফাঁস হওয়া সরকারি নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত নতুন তদন্ত প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, এসব সহিংসতা ছিল উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও সমন্বয়ের ফল।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে হিজাব আইন ভঙ্গের অভিযোগে নীতি পুলিশের হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। নারী, শিশু ও তরুণদের অংশগ্রহণে ছড়িয়ে পড়া সেই আন্দোলনের জবাবে রাষ্ট্র কঠোর দমন অভিযান চালায়।

অ্যামনেস্টির তদন্তে ৩৭৭ জন বিক্ষোভকারী ও পথচারীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৬ জনই শিশু। একই সঙ্গে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আটক ১৬ জনের ওপর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছয়জন নারী, সাতজন পুরুষ, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর রয়েছে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নারী ও কিশোরীদের যোনি, পায়ুপথ ও মুখে এবং পুরুষ ও কিশোরদের পায়ুপথে লাঠি, কাচের বোতল, হোস পাইপ, আঙুল ও কিছু ক্ষেত্রে নিজের যৌনাঙ্গ ব্যবহার করে নির্যাতন চালায়।

অ্যামনেস্টির দাবি, ফাঁস হওয়া সরকারি নির্দেশনায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ও নির্মম’ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। একটি নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘প্রয়োজনে হত্যা’ করতেও বলা হয়। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রমাণ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, এই তদন্ত দেখায় যে, রাস্তায় থাকা নিরাপত্তার বাহিনীর সদস্যরা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেননি। তাঁরা একটি সুসংগঠিত কমান্ড কাঠামোর অধীনে ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ৮৭ জন ইরানি কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি এবং তৎকালীন পুলিশ ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী মাজিদ মিরাহমাদিও।

অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, ২০২২ সালের এই সহিংসতার কোনো বিচার না হওয়ায় এবং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকায় তা পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আরও নৃশংস রূপ নেওয়ার পথ প্রশস্ত করে। জানুয়ারির ওই আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান।

ইরান সরকার অতীতেও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে অ্যামনেস্টি বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।