হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

বিয়ের আসরে মার্কিন হামলায় শোকাতুর ইরানের কুহেস্তাক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কুহেস্তাকে নিহতদের স্মরণানুষ্ঠানে শোকগ্রস্ত এক নারী। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের বালুচ-অধ্যুষিত কুহেস্তাক শহরে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার পর নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চালানো ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি।

হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ছোট এই উপকূলীয় শহরে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে ফুলের মালা, বিয়ের সাজসজ্জা ও রক্তমাখা জুতা। আনন্দের একটি রাত মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকের ঘটনায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, যে বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল সেটির মালিক স্থানীয় জেলে আলি মাল্লাহি। সেখানে তাঁর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে মাল্লাহি বলেন, হামলায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্র শুরু হয়েছিল। বর-কনের অপেক্ষায় ছিলেন স্বজন ও বন্ধুরা। অনেক অতিথি তখনো আসেননি। হামলার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে আতঙ্ক ও শোক।

স্থানীয় নাপিত আহমাদ জানান, বিস্ফোরণে শুধু বিয়ের বাড়িই নয়, আশপাশের অনেক ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় ধারালো ধাতব টুকরার আঘাতে প্রতিবেশীরাও আহত হন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁধে কফিন বহন করছি না, আমরা দক্ষিণে আমাদের জন্য অপেক্ষা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎ বহন করছি।’

হামলা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে ‘কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের হতাহতের তথ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ভ্যান্স।

মানবাধিকারকর্মীরা জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় হামলার তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে কথা না বলার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ওপর চাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হামলায় নিহতদের মধ্যে চার বছরের আমির মোহাম্মদ কারিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মাল্লাহি এবং ২২ বছর বয়সী আসিয়েহ মোলাইনেজাদ রয়েছেন। গুরুতর আহত অন্তত ছয়জন মিনাবের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

বালুচ মানবাধিকারকর্মী ফারজিন কাদখোদায়ি বলেন, বিয়ের মতো আনন্দঘন আয়োজনে বালুচ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাদের পরিবার এখন ‘কল্পনাতীত শোকের’ মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় জেলে চকর বালুচ জানান, মাকরান উপকূলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। অথচ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সংঘাতের পথেই বারবার সাধারণ মানুষকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী তো আমরাই।’