হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের মধ্যেও তেল বেচে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার: ফারস নিউজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

তেহরানের ফেরদৌসি স্কয়ারের কাছে একটি বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে ইরানি পতাকা। ছবি: এএফপি

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে সাড়ে সাত বিলিয়ন (৭৫০ কোটি) মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দেশটি এই রাজস্ব অর্জন করতে সক্ষম হলো।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্জিত সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রা ইতিমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান) রিজার্ভে জমা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফারস নিউজ বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ গুণ বা ৫০ শতাংশ বেশি। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন রোধ ও বিকল্প বিপণনব্যবস্থা জোরদার করার ফলেই এই সফলতা এসেছে।

ফারস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই চার মাসে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, তা দিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত ইরানি সরকারের যাবতীয় জরুরি পণ্য আমদানি ও প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

২০২৬ সালের শুরুর দিকেই মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বছরের দুই মাস পার হওয়ার পর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক হামলা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এই সংঘাতের ফলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়বে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—সংঘাত সত্ত্বেও দেশটির তেল উত্তোলন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিকল্প উপায়ে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখাই ইরানের আয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক অভিযানের অতিরিক্ত ব্যয় ইরানের সরকারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে এই সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার পৌঁছানোয় সাময়িকভাবে দেশটির জাতীয় মুদ্রার (রিয়াল) ওপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেল খাতের এই প্রবৃদ্ধি ইরানের বর্তমান সরকারকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে।