হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

সমঝোতায় ফিরতে উদ্যোগী ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ফেরার জন্য তোড়জোড় করছে ইরান। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এই কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তরফে আরও বলা হয়, দেশের লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে, দ্রব্যমূল্যের কারণেই সমঝোতার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

আল জাজিরার খবরে জানা যায়, ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি যেইনিভান্দ বলেছেন, ইসলামাবাদ চুক্তিতে (সমঝোতা স্মারকটি এই নামেও পরিচিত) ফিরতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় চেষ্টা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার দাবি জানান তিনি।

আলি যেইনিভান্দ আরও বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।

ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সাত মাসের যুদ্ধে অন্তত ৭৫ হাজার আবাসিক ভবনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন যেইনিভান্দ। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর এসব বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

ইরান এমন সময় এসব কথা জানাল, যখন দেশটির বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ‘রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে লিন্ডসে ও গ্রাহামের নিষেধাজ্ঞা ২০২৬’ বিল স্বাক্ষর করে একে আইনে পরিণত করেন। এই আইন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

তবে যুদ্ধের খরচ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও যথেষ্ট লেজেগোবরে অবস্থায়। পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানিসহ অন্যান্য খাত মিলিয়ে মার্কিন করদাতাদের অন্তত ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার খরচ করেছে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে আবার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে (মধ্যপ্রাচ্য থেকে) নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিকল্প নেই। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেন তিনি।

হুতি-সৌদি সংঘাত বাড়ছে: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সর্বশেষ দফার সংঘাতে অন্তত ৪৮ জন নিহতের খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। লড়াইয়ে এক পক্ষ হচ্ছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীরা। আরেক দিকে আছে সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী।

সরকারি বাহিনীর সদস্যরা গতকাল জানিয়েছে, হুতিদের সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের ১৭ সদস্য নিহত হয়েছেন। হুতিদের দাবি, আগের দিন শুক্রবার, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে অন্তত ৩১ হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার হুতিরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে অন্তত ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি।

এদিকে, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে, রাজধানী রিয়াদের আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কিছুক্ষণ পর, রাজধানী থেকে দুটি বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। প্রসঙ্গত, হুতিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রথমবারের মতো রাজধানীতে হামলা হলো।

এএফপি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রিয়াদ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কালো ধোঁয়া ও আগুন দেখা গেছে। সেখানে দমকলকর্মীদের দেখা গেছে, যাঁরা সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি জ্বালানি ট্যাংকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলেন।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪ গতকাল জানায়, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুরুতর সমস্যার কারণে কয়েকটি ফ্লাইটে বিলম্ব ও বহু ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।