হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মিসরে মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপক সারা খলিফা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মাদকসংক্রান্ত অপরাধের দায়ে মিসরের টেলিভিশন উপস্থাপক সারা খলিফাসহ ১১ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরাম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা একটি অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ওই চক্র মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি করে তা বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করত। তাঁদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও ছিল।

৩৯ বছর বয়সী খলিফা ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত মাসে প্রথমবার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আইন অনুযায়ী মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছ থেকে ধর্মীয় মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। আদালত ওই মতামত পাওয়ার পর এক মাস পর রায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

বিচার চলাকালে আদালতকে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য এবং মাদক তৈরির জন্য আমদানি করা কাঁচামাল জব্দ করেছে।

আল-আহরাম জানিয়েছে, ২০ জন সাক্ষী প্রসিকিউটরদের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি কথোপকথন ও ভিডিও ক্লিপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আখবার আল-ইয়োম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে হাজিরায় সারা খলিফা দাবি করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে সেগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার আগ পর্যন্ত তিনি কখনো কোনো মাদক দেখেননি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে মিসরে ৪৯২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের মাদক পাচার ও ধর্ষণের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে এসব ‘অপরাধকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা যায় না’, অথচ আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের’ মতো অপরাধের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।