অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এর মধ্যেই ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মতরিচ। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে ইসরায়েল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো ইহুদিবিদ্বেষী সরকারের পদদলিত হওয়ার মতো পাপোষ হয়ে থাকব না। এমন একটি দেশে, যা উগ্র ইসলাম দ্বারা দখল হয়ে গেছে এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ইহুদি ও ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আক্রমণ করছে। ইসরায়েল ভূখণ্ডে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সমাপ্তি ঘটেছে।’
ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় এক পোস্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে ব্রিটেনের ‘দখলদারিত্বের’ কথা উল্লেখ করেন। বেন-গভির লিখেছেন, ‘সময় এসেছে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রকাশ্যে স্বীকার করার যে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আর্জেন্টাইন নাম) দখল করা আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড। ব্রিটিশরা আর্জেন্টিনার জনগণের কাছ থেকে এই ভূখণ্ড সহিংসভাবে চুরি করে রেখেছে।’
বেন–গভির আরও লিখেন, ‘ব্রিটিশরা শুধু ভূখণ্ডটি দখল করেই সন্তুষ্ট নয়; তারা সেখানে তেল উত্তোলনের কাজও চালাচ্ছে এবং আর্জেন্টিনার জনগণের কাছ থেকে সেই অর্থ চুরি করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।’
এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে মন্তব্য চেয়েছে মিডল ইস্ট আই। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্য উভয়েই সার্বভৌমত্বের দাবি করে। তবে দ্বীপগুলোর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে।
গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বলেন, আর্জেন্টিনার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ‘লঙ্ঘিত’ হয়েছে এবং তাঁর দেশ ‘যে-ই বিরক্ত হোক না কেন, দাঁতে দাঁত চেপে’ নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল উত্তোলনের চেষ্টা করা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়েছেন মিলেই। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বইছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে তিনি ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারেন। বেন-গভির ও স্মতরিচের মন্তব্যগুলো ব্রিটেনের পক্ষ থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক নীতি ঘোষণা করার প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব নীতির মধ্যে মঙ্গলবার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সরকার ব্রিটেনকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর সতর্ক করে বলেন, ‘ব্রিটেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ইসরায়েলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এখনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেননি। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানের ঘোর বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে।
ফলে ব্রিটেন ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।