গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালিয়েছিল—প্রথমবারের মতো এ কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে তারা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজার উত্তরাঞ্চলে পরিবারের সদস্যদের বহনকারী ওই গাড়িতে তাদের সেনারা গুলি চালিয়েছিল। এর আগে অবশ্য এ ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল আইডিএফ। ঘটনার কয়েক মাস পর প্রকাশিত এক প্রাথমিক তদন্তে তারা দাবি করেছিল, গাড়িটির কাছাকাছি কিংবা সেটিতে গুলি চালানোর মতো দূরত্বে তাদের কোনো সেনা উপস্থিত ছিল না।
ঘটনার দিন হিন্দ রাজাব পরিবারের ছয় সদস্যের সঙ্গে একটি গাড়িতে করে গাজার উত্তরাঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিল। পথে গাড়িটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণ শুরু হলে পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন। গুলিবিদ্ধ গাড়ির ভেতর হিন্দ বেঁচে ছিল। পরে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে ফিলিস্তিনি প্যারামেডিকদের কাছে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়।
হিন্দকে উদ্ধারে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হলে সেটিও গুলির মুখে পড়ে। পরে অ্যাম্বুলেন্সের দুই কর্মীও নিহত হন বলে জানা যায়।
ঘটনার ১২ দিন পর গাজার একটি এলাকায় গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া গাড়িটির ভেতর থেকে হিন্দ রাজাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের আগে প্যারামেডিকদের সঙ্গে হিন্দের ফোনালাপের রেকর্ডিং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তার কণ্ঠে উদ্ধারের আকুতি বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং হিন্দসহ গাজায় নিহত হাজারো শিশুর মৃত্যুর জন্য জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হয়।
হিন্দ রাজাবের ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ ২০২৬ সালে অস্কারের জন্য মনোনয়ন পায়। ঘটনাটি গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জবাবদিহি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কেরও অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
এখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন স্বীকারোক্তি ও ফৌজদারি তদন্তের ফলে হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সেনাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।