ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ঘটনাটি কখন বা কোথায় ঘটেছিল, কিংবা তাঁর কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, তাও জানাননি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গতকাল সোমবার নেতানিয়াহু এই দাবি করেন। তিনি এমন এক সময়ে এই দাবি করলেন, যখন ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে তাঁর জোট পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তাঁর মেয়ে বুশরা এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সরকারের প্রতি অনুকূল হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তাঁর ছেলেকে হত্যার কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের দাবি করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। ইরান তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। আইজেনকট ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। তবে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সংস্থা তাঁকে নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা দল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।
নেতানিয়াহু আইজেনকটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এটি কোনো ‘বিলাসিতা’ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘এটি না থাকলে (ইরানিরা) সফল হবে।’ নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁর দুই ছেলে এবং স্ত্রীকে বাড়তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আসছেন। তাঁর নিরাপত্তার পেছনে ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয় হওয়ায় দেশটিতে এ নিয়ে বিতর্কও হয়েছে।
এ দিকে আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। আলি খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তাঁর বাবার শেষকৃত্য উপলক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।