যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এখন পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এবং সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া যে নথি প্রকাশ করেছে, তাতে তারা চুক্তিটিকে ১৪ দফার খসড়া চুক্তি বলে দাবি করছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কেউই এই চুক্তিতে থাকা বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি।
এদিকে, চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, ইরান ‘বাস্তব সুবিধা’ পেতে পারে, তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে যদি দেশটি ‘মৌলিকভাবে নিজেদের বদলে ফেলবে’। ভ্যান্স বলেন, ‘চুক্তিটি আসলে খুবই সহজ। প্রথমত, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। আর তৃতীয়ত, ইরান যদি নিয়ম মেনে চলে, তাহলে তারা অনেক ধরনের সুবিধা পেতে পারে, যেগুলো এই চুক্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে।’
ভ্যান্স আরও বলেন, ‘যদি তারা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করে, যদি তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে তারা সত্যিকারের কিছু সুবিধা পেতে পারে। আর যদি তারা এসবের কিছুই না করে, তাহলে তারা কিছুই পাবে না।’ ভ্যান্স যোগ করেন, ‘যেভাবেই হোক, যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হবে।’
অপর দিকে, শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা একে ‘একটি বড় অগ্রগতি’ এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ‘সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নেতারা বলেন, তাঁরা এই চুক্তিকে সমর্থন করেন এবং ‘বাস্তবায়নে অবদান রাখতে প্রস্তুত।’
তাঁরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের ‘নিষেধাজ্ঞা বা টোল ছাড়া’ অবাধ চলাচলের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা এই চুক্তির পরবর্তী ধাপে একটি ‘শক্তিশালী ও বিস্তৃত কূটনৈতিক পরবর্তী চুক্তি’র প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানান, যার লক্ষ্য হবে ‘অঞ্চলের সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’।
লেবাননের বিষয়ে জি-৭ নেতারা ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি’র প্রতি সমর্থন জানান এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য লেবানন রাষ্ট্রের প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নেন। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দেন, গাজায় ‘মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুততর করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে’। একই সঙ্গে তাঁরা পশ্চিম তীরে চলমান ‘সহিংসতা’ বন্ধের আহ্বান জানান।