হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হামাস নয়, জিম্মিদের ফেরাতে একমাত্র বাধা নেতানিয়াহু: ভুক্তভোগীদের পরিবার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

হামাসের হাত থেকে জিম্মিদের ফেরানোর পথে একমাত্র বাধা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একমাত্র তাঁর কারণেই এখনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমনটাই অভিযোগ করেছে ইসরায়েলি জিম্মিদের স্বজনদের সংগঠন ‘ব্রিং দেম হোম নাও’।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সংগঠনটি লিখেছে, ‘গত সপ্তাহে কাতারে ইসরায়েলের বিমান হামলাই প্রমাণ করে, যখনই চুক্তি হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই সেটি বানচালের চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু।’

গত মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আর এরপরই জিম্মিদের স্বজনদের ওই সংগঠন নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করে এ মন্তব্য করল।

এদিকে গতকাল শনিবার নেতানিয়াহু বলেছেন, কাতারে হামাস নেতাদের শেষ করে দিতে পারলেই জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার পথে প্রধান বাধা দূর হবে। বরাবরই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারার জন্য হামাসকে দায়ী করে আসছেন নেতানিয়াহু। কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দা কুড়াতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। এরপরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, এসব নিন্দামন্দকে তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না।

কাতারে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্তব্যে যারপরনাই বিরক্ত জিম্মিদের স্বজনেরা। তাঁদের ভাষ্য, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে নেতানিয়াহু যে ব্যর্থ, তা ঢাকতে এমন খোঁড়া অজুহাত দিচ্ছেন। তাঁরা বলেন, কাতারে হামলা প্রমাণ করে, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে এখন কেবল একটাই বাধা। আর সেটি যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আজেবাজে অজুহাত নিয়ে কালক্ষেপণের এই কৌশল বন্ধ করার সময় এসে গেছে। নেতানিয়াহুর এই কালক্ষেপণের জন্য ৪২ জিম্মিকে প্রাণ দিতে হয়েছে, অন্যরা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

নেতানিয়াহু যখন বিশ্বজুড়ে নিন্দার পাত্রে পরিণত হয়েছেন, তখন গতকাল ইসরায়েল সফর করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কাতারে ইসরায়েলের এ হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুশি নন’ বলে জানিয়েছেন মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এ হামলা নিয়ে আমরা খুশি নই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা নিয়ে খুশি নন। এখন সামনে কী আছে, সেটাই দেখার বিষয়।’ এ সময় তিনি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখনো ট্রাম্পের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন।

এ হামলার কারণে জিম্মি মুক্তি চুক্তি দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের কাজ করার বিষয়টি জটিল হয়ে উঠবে কি না—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, ‘কাতার একটি ভালো সহযোগী। অনেক ক্ষেত্রে আমরা বেশ ভালো কাজ করছি।’

হামলার পরপরই একে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা করেছে কাতার।

এদিকে নেতানিয়াহু বলছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা দোহায় অবস্থানরত নেতারাই পরিকল্পনা করেছিলেন, সুতরাং সেখানে হামলা চালানো পুরোপুরি যুক্তিসংগত।

ইরানের বিক্ষোভে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে ছাত্রীকে হত্যা

বিক্ষোভে হতাহতদের স্মরণে ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

মার্চে গাজায় নতুন করে হামলা ও দখল অভিযান শুরু করবে ইসরায়েল

জনগণের ‘কথা শুনতে’ প্রস্তুত, ‘যেকোনো মূল্যে’ অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করবে ইরান সরকার

ইরানে রাজনৈতিক সংকট: বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে, বাড়ছে মৃত্যু

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

ইরানের বিক্ষোভের মুখ হতে চাইছেন—পারবেন কি শাহপুত্র রেজা পাহলভি

ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা ইসরায়েলের, শক্ত প্রমাণ আছে: সোমালিয়ার মন্ত্রী

বিক্ষোভ দমনে হিমশিম ইরান, নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহতের দাবি