অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদ, বেশ কিছু গাড়ি ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতকারীরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় অঞ্চলটিতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পশ্চিমতীরের তাল গ্রামের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটল ইসরায়েলি বসতকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার মাত্র দুদিন পর।
রোববার (২৬ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইসরায়েল সরকারের উগ্র ডানপন্থী অংশের সমর্থনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অধিকৃত পশ্চিমতীরের দুটি গ্রামে রাতভর হামলা চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুট এবং বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি লেখা হয়।
কুসরা গ্রামের মেয়র জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বসতকারীরা নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি বলেন, মসজিদের দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুসরায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করবে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৃথক একটি ঘটনায় কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। হামলাকারীরা এই মসজিদের দেয়ালেও বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।
গত শুক্রবার তাল গ্রামের কাছে সংঘর্ষে হতাহতের পর পশ্চিমতীরের বিভিন্ন গ্রামে ইসরায়েলি বসতকারীদের একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পশ্চিমতীরে অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তাল গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনির বাড়ি ধ্বংস করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ দেখা দিলেও সহিংসতা কমার লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমতীরে ১ হাজার ১১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত। এর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বসতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে ইসরায়েল শত শত বসতি গড়ে তুলেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।