ইরানের জনগণ বর্তমানে ‘অনেক সমস্যার’ মুখোমুখি বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার সংকট ও বেকারত্ব কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, মানুষের জীবনযাত্রার সমস্যা ও বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা সর্বান্তকরণে চেষ্টা করছি। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাই, যেখানে মানুষ মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার অভিযান শুরুর পর পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এসেছে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ঘোষণা করে ইরানের শাসকব্যবস্থার ‘পতন’ ঘটানোর অঙ্গীকার করে।
এই প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান এখন ‘সর্বাত্মক অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তাযুদ্ধের’ মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) বলছেন, ইরানের ওপর সবচেয়ে কঠোর ও ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন।’
রোববার (২৩ আগস্ট) খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক দুর্দশা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ব্যাপক ওঠানামাকে কেন্দ্র করে ইরানে একাধিক গণবিক্ষোভ হয়েছে। এসব কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।
অস্থিরতার সময় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ। সহিংসতার জন্য সেসময় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে।
তবে বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন এনজিওর দাবি, বিক্ষোভ দমনে নির্বিচার অভিযান চালানো হয়েছিল এবং এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন।