হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন পেজেশকিয়ানসহ ইরানের নেতারা—হরমুজ নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইরানের তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে বক্তব্য রাখছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে তেহরান।

ইরানি ওই কর্মকর্তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার ‘সোনালি সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য অধিবেশনে একই সময়ে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার পর এই প্রথম তাঁরা একই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।

ইরানি কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। গত জুলাইয়ের পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠকের খবরও পাওয়া যায়নি। ওই সময় ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত যুদ্ধ অবসানের অন্তর্বর্তী চুক্তি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেস্তে যায়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে তারা কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ওয়াশিংটনের কাছে তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তা বিবেচনা করবে, বিশেষ করে সেই আলোচনা ইতিবাচক ফল এবং সংকট সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করলে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার ট্রাম্প বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব দেশ হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চাইলেও ইরানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে সতর্ক।

বিশেষ করে সৌদি আরবের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে পিছু হটিয়ে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। চলতি মাসে সংঘাতের কারণে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, আরও কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় তেলবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

গালফ দেশগুলোর বৈঠকে কাতারের একটি প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। প্রস্তাবটিতে ইরান ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে একটি অভিন্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানো প্রয়োজন। আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।