যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির মুখে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, শত্রুরা যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে তা কীভাবে এবং কখন শেষ হবে—তা নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও সে দেশের জনগণ। এবার হামলার জবাব দিতে কোনো ভৌগোলিক সীমানা মানা হবে না।
বিবৃতি সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আব্দুল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি।
বৈঠকে মোজতবা খামেনি তাঁর সামরিক কমান্ডারদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, যেকোনো হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার হামলার জবাব দিতে কোনো ভৌগোলিক সীমানা মানা হবে না। একই সঙ্গে, মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুদের মালিকানাধীন সমস্ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়।
এদিকে পুনরায় যাতে যুদ্ধ শুরু না হয়, এ জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো এক চিঠি হস্তান্তরের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবারে একটি কাতারি প্রতিনিধিদল তেহরান পৌঁছায়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সেই চিঠির আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব এখনো তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।