হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মক্কায় হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে দাবি করে সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি, সতর্কতা জারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ছুড়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে বলেও জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয় বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়।

এ ঘটনায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গঠিত জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জোট দ্বিধা করবে না।

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কা। প্রতিবছর বিশ্বের লাখো মুসলমান পবিত্র এই নগরীতে হজ পালনে যান। মক্কায় হামলার ঘটনা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জোটের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটিকে কেবল লজ্জাজনক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করা যায়। এটি ওহি নাজিল হওয়ার স্থান, ইসলামের বার্তার সূচনাস্থল এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত হানার চেষ্টা।’

হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি।

তবে হুতিদের ড্রোন হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মক্কায় ড্রোন হামলার যে দাবি করা হচ্ছে, তা একটি পুরোনো মিথ্যা। এর আগেও এই মিথ্যা বলা হয়েছে এবং এখন আর কেউ এতে বোকা হয় না।’

এ দিকে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) মক্কায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি এটিকে ইসলামের পবিত্র নগরীতে একটি ‘জঘন্য’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নিয়ে গঠিত এই সংস্থা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘চলমান আগ্রাসনের’ও নিন্দা জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কাসহ দেশের আরও কয়েকটি শহর রয়েছে। ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের এক সপ্তাহ ধরে চালানো হামলার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়। এসব হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো। তবে এর কিছু সময় পরই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।

মক্কা ও অন্যান্য এলাকায় সতর্কতা জারির পর হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয় আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের হুমকির কারণে ইয়েমেন সীমান্তে ‘ভ্রমণ না করার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মক্কার আশপাশে হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। আরব জোটের কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ইয়েমেনের হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটি প্রতিহত করে। সে সময় জোট জানিয়েছিল, তাইফ প্রদেশের আল-ওয়াসলিয়া এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করা হয়। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে বেসামরিক এলাকাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এতে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

এর আগের সপ্তাহে গোষ্ঠীটির হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

এদিকে শুক্রবার সৌদি আরব সাময়িকভাবে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েক দফা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপসাগরীয় ও মুসলিম দেশগুলোর বিভিন্ন সংগঠন পাইপলাইনে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।