ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি করলেও দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের এখনো ইসরায়েলে আঘাত করার মতো ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা’ রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফিপি ডেফ্রিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ইরানের ভেতরে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা লঞ্চার ধ্বংস করেছি যা ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে তাদের হামলার ক্ষমতা আরও কমিয়ে আনা যায়।’
তবে ডেফ্রিন সতর্ক করে বলেন, ‘এত কিছুর পরও বর্তমান ইরান সরকারের হাতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে। আমি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অভেদ্য নয়।’
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অসংখ্য লঞ্চ সাইট গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে লেবানন সীমান্তে সংঘাত আরও তীব্রতর হয়েছে। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের সাফেদ শহরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং ইরানের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার পর উত্তর ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে শুরু করেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা আঘাত হানার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা