হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা চীনের, মোকাবিলার হুমকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন—চীন ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা সবসময় আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। এই ধরনের বৈধ বাণিজ্য ও সহযোগিতায় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা বাধা দেওয়া উচিত নয়।

এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরান এবং দেশটির সঙ্গে আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ার করেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক অংশীদারত্ব বজায় রাখা যে কোনো দেশ, ব্যাংক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মার্কিন অবরোধের কারণে এই বাণিজ্য কিছুটা কমলেও ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশই এখনো চীনে যায়। বেসেন্ট নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও চীনা ব্যাংকগুলোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ নয়।

তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের তেল বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার জন্য ব্যবহৃত আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এল, যখন আগামী মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের নতুন এই উত্তেজনা দুই দেশের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অবশ্য নতুন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল চীনে যায় এবং বেইজিং অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে স্বল্পমেয়াদে ইরানের জ্বালানি রপ্তানিতে নতুন পদক্ষেপের প্রভাব সীমিত হতে পারে।

ইরানও বলেছে, তারা নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই ‘আরেকটি পরাজয়’ বয়ে আনবে।