গাজায় হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। আজ বুধবার (২৭ মে) ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবার চালানো এক হামলায় ওদেহ নিহত হন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস।
আল জাজিরা জানিয়েছে, মোহাম্মদ ওদেহ হামাসের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদের পর তিনি আল-কাসসাম ব্রিগেডের নেতৃত্ব নেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যদিও হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘গাজায় হামাসের সামরিক শাখার চার নম্বর কমান্ডারকে গতকাল নির্মূল করা হয়েছে।’ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ওদেহকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, দীর্ঘ কয়েক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির পর ওদেহের অবস্থান শনাক্ত করে এই হামলা চালানো হয়। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে ওদেহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
অন্যদিকে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রাতে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রেমাল এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষের ভিড়ে পরপর তিনটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত গাজায় ৭২ হাজার ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহইয়া সিনওয়ার, সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।