হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে সামরিক সক্ষমতায় নতুন সংযোজন ড্রোনবাহী জাহাজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের ড্রোন ক্যারিয়ার শহীদ বাঘেরি। ছবি: এএফপি

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবহরে যুক্ত হলো ড্রোন ও হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ। আজ বৃহস্পতিবার ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। শহীদ বাঘেরি নামের ড্রোন ক্যারিয়ারটি মূলত বাণিজ্যিক কনটেইনারবাহী জাহাজ ছিল। পরে এটিকে ৫৯০ ফুট দীর্ঘ রানওয়েসহ সামরিক অভিযানের উপযোগী করে তোলা হয়।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে সচল নৌ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করেছে, যা সমুদ্রে ড্রোন ও হেলিকপ্টার মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বহরে এই জাহাজের সংযোজন ইরানের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দূরবর্তী জলসীমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এই যুদ্ধজাহাজ বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আগের যুদ্ধজাহাজগুলোর চেয়ে ভিন্ন। কারণ, এটি কাহের ড্রোনের (একটি স্থানীয় যুদ্ধবিমানের ক্ষুদ্র সংস্করণ) মতো বড় ড্রোন উৎক্ষেপণ এবং সেটির অবতরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম।

এ ছাড়া, জাহাজটি দ্রুতগতির অ্যাটাক নৌযান, মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন ও স্বল্পপাল্লার অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল বহনে সক্ষম। একবার পরিপূর্ণ জ্বালানি নিয়ে নিলে টানা এক বছর গভীর সমুদ্রে চলতে পারে এই ক্যারিয়ার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নৌবহরে এই ক্যারিয়ার যুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর ওপর আরও নিবিড় নজরদারি চালাতে পারবে ইরান। মার্কিন থিংক ট্যাংক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ইরানি নৌবাহিনীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফারজিন নাদিমি বলেন, ‘এটি ক্ষমতা প্রদর্শনের এক কার্যকরী হাতিয়ার হতে পারে। এটি জলদস্যু দমন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনের জন্য সহায়ক হতে পারে।’

ফারজিন নাদিমি আরও বলেন, ‘এটি ইরানের সমুদ্রসীমা সম্প্রসারিত করবে এবং নজরদারি ড্রোন ও হেলিকপ্টার পরিচালনার সুযোগ তৈরি করবে। তা ছাড়া, যদি এটি সঠিক প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত হয়, তবে এটি মাইন-ক্লিয়ারিং অপারেশন পরিচালনায়ও সহায়তা করতে পারে।’

তবে আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক দিক থেকে এই ক্যারিয়ারের কার্যকারিতা সীমিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাদিমি বলেন, ‘কোনো গোপন অভিযানের উপযুক্ত নয় এটি। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকয় আধুনিক অ্যান্টি-শিপ অস্ত্রের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে এটি। তা ছাড়া, নজরদারি রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা নেই এটির।’

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা সিকিউরিটি ভেরোনার ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শাহিন মোদাররেস বলেন, ‘এই ক্যারিয়ার নজরদারি রাডার ফাঁকি দিতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতাই এটিকে একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে বাধা দেবে। জাহাজটি নজরদারি এবং সীমিত পাল্লার জন্য ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে পারলেও, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে মারাত্মক সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রবাহী কোনো করভেটকে যদি এর সুরক্ষায় নিয়োজিত করা যায় তাহলে আরেকটু শক্তিশালী হবে ক্যারিয়ারটি। অন্যথায় খুব সহজেই একে ধ্বংস করতে পারবে শত্রুপক্ষ।

জানুয়ারির শুরু থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত চলমান সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন নতুন অস্ত্র প্রকাশ করেছে। এমন এক সময়ে অস্ত্রগুলো সামনে আনা হচ্ছে—যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

‘শহীদ বাঘেরিই’ ইরানের একমাত্র ড্রোন ক্যারিয়ার নয়। এ ছাড়া আরও দুটি—‘শহীদ রৌদাকি’ ও ‘শহীদ মাহদাভি’ ড্রোন ক্যারিয়ারও ইরান তৈরি করেছে। এই ড্রোন ক্যারিয়ারগুলোর মাধ্যমে ইরানি নৌবাহিনী মনুষ্যবিহীন আকাশযানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের আরও কাছে নিয়ে যেতে পারবে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বহু বছর পরও ইরান নিজস্ব সশস্ত্র ড্রোন বহর তৈরি করেছে। এই ড্রোন অঞ্চলটির বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র এবং ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ানরা ব্যাপকভাবে ইরানের শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ আছে।

ট্রাম্পকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিল ইরান, ষড়যন্ত্র ভন্ডুলের দাবি

সৌদি আরবের হামলায় আমিরাতপন্থী ৭ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত, ইয়েমেনে নতুন উত্তেজনা

ইরানের গণ-অভ্যুত্থান ইতিহাসকে এগিয়ে নেবে—স্বর্ণপামজয়ী জাফর পানাহি

অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল ইরান বিক্ষোভে উত্তাল, সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬

অর্থনৈতিক মন্দায় বিক্ষুব্ধ ইরান, জোরালো হচ্ছে সরকার পরিবর্তনের দাবি

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহত ১

গত বছর দেশ ছেড়ে চলে গেছে ৬৯ হাজার ইসরায়েলি

গাজায় এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করল ইসরায়েল, ব্যাপক বিপর্যয়ের শঙ্কা

গাজা-পশ্চিম তীরের ৩৭ ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিত করেছে ইসরায়েল

ইয়েমেন সংঘাতে মুখোমুখি অবস্থানে সৌদি ও আরব আমিরাত