হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক ও এআই দিয়ে যেভাবে খামেনি হত্যার ছক কষে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকের সুক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভাবনীয় ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবারের এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির পাশাপাশি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের রাজপথের ট্রাফিক ক্যামেরাগুলো কয়েক বছর আগেই হ্যাক করেছিল ইসরায়েল। এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে তারা শহরের প্রতিটি অলিগলি ম্যাপ করা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের ধরন পর্যবেক্ষণ এবং রাজধানী তেহরানের ভেতরে কী ঘটছে, তার একটি নিখুঁত চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম প্রকাশিত এই বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত একটি বিশাল ডেটা প্রসেসিং সিস্টেম। ইসরায়েলি সূত্র মতে, এটি একটি ‘এআই-চালিত টার্গেট প্রোডাকশন মেশিন’। এতে মানুষের দেওয়া তথ্য, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স, হ্যাক করা যোগাযোগ মাধ্যম, স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ট্রাফিক ক্যামেরার ভিজ্যুয়াল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী কম্পিউটার এই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৪ ডিজিটের একটি নিখুঁত গ্রিড কো-অর্ডিনেট বা অবস্থান বের করে দেয়। ১০ বছর ধরে প্রযুক্তিবিদ, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ দল এই সিস্টেমকে নিখুঁত করার কাজ করেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, এর আগে গত বছরের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় খামেনিকে টার্গেট করা হলেও তিনি ভূগর্ভস্থ বাংকারে লুকিয়ে থাকায় তখন সাফল্য আসেনি। তবে এবার গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, খামেনি দিনের বেলা নিজেকে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষিত মনে করতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগায় ইসরায়েল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহায়তায় খামেনির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করার পর শনিবার স্থানীয় সময় সকালে দিনের আলোয় তাঁর কম্পাউন্ডে ৩০টি বোমা ফেলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি গত রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এদিকে এই অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কুয়েতে একটি মার্কিন অপারেশন সেন্টারে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে এই হামলা হয়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করেন এবং পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার বিকেলে ট্রাম্প ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।

এই অভিযানের মাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করতে বলল চীন

অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ড্রোন প্রায় অক্ষত অবস্থায় ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকে ‘নির্মূল’ করার হুমকি ইসরায়েলের

ইরানের আক্রমণে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার

ইরানি হামলায় ধ্বংস কাতারসহ অন্তত ৭ মার্কিন স্থাপনার রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা

সৌদি আরবে সিআইএর গোপন স্টেশনে হামলা

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা কমেছে

গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি

ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যে কারণে ইরানের পক্ষেই যাবে