হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হঠাৎ আলোচনায় আরব দেশগুলোর ‘যৌথ সামরিক বাহিনী’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত আরব দেশগুলোর যৌথ সামরিক মহড়ার একটি ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে একটি যৌথ আরব সামরিক বাহিনী গঠনের পুরোনো ধারণা। এটি অনেকটা ইউরোপের দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাটো’ বাহিনীর মতো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব রাজনৈতিক বিভাজন ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়া এখনো খুবই কঠিন।

বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক নিবন্ধে আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে—২০১৫ সালে আরব নেতাদের এক সম্মেলনে এমন একটি বাহিনীর কথা প্রথম বলেছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ সিসি। এ বিষয়ে সিসি বলেছিলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি যৌথ আরব বাহিনী গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে ভাবতে হবে। সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার পর সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও আবারও প্রচার করছে দেশটির সরকারঘনিষ্ঠ একটি টেলিভিশন চ্যানেল।

সর্বশেষ গত ৭ মার্চ আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দেলাত্তি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা প্রমাণ করছে, যৌথ আরব পদক্ষেপের ধারণাকে সক্রিয় করা জরুরি। এর মধ্যে একটি যৌথ সামরিক বাহিনী গঠনের বিষয়ও থাকতে পারে, যা সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষা এবং আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় কাজ করবে।

২০১৫ সালের আরব সম্মেলনের এক প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—এই বাহিনী সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে হুমকি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং শান্তিরক্ষা ও মানবিক মিশনে কাজ করতে পারে। পরিকল্পনায় আরও ছিল একটি আরব প্রতিরক্ষা পরিষদ গঠন, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা থাকবেন। পাশাপাশি সামরিক প্রধানদের একটি আলাদা পরিষদ সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করবে।

তবে এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ২২টি সদস্য নিয়ে গঠিত ‘আরব লীগ’-এর দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সংজ্ঞা, বাহিনীর আকার, নেতৃত্ব, সদর দপ্তরের অবস্থান ও দায়িত্ব নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

মিসরের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার ও কৌশল বিশ্লেষক সামির রাঘেব মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনী নিয়ে আলোচনা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, এখন জরুরি কাজ হলো ইরানি হামলার মুখে থাকা দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘আগুন যখন জ্বলছে তখন আমরা ঘর বানানোর কথা বলছি।’

অন্যদিকে কৌশল বিশ্লেষক মোহাম্মদ মেগাহেদ এলজায়াত বলেন, মূল সমস্যা হলো আরব দেশগুলোর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও শত্রু সম্পর্কে একক মতের অভাব। ১৯৫০-এর দশক থেকেই একটি যৌথ আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও তা খুব কমই কার্যকর হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সব আরব দেশকে নিয়ে বড় বাহিনী গঠনের চেয়ে আঞ্চলিক সামরিক জোট বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে মিশর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরেও একটি কার্যকর সামরিক জোট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ‘যৌথ আরব বাহিনী’ ধারণাটি এখনো অনেকটা রোমান্টিক রাজনৈতিক স্বপ্নের মতো—যা বাস্তবে রূপ নিতে হলে আরব বিশ্বের গভীর রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন।

যুদ্ধ শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করার বদলে শক্তিশালী করে ফেলবে— গণতন্ত্রকামী ইরানিদের মত

ইরানে হামলার নিন্দা, নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না ইরাক

হামলায় মোজতবা খামেনির মুখে আঘাত, পায়ের হাড়ে চিড়

ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার হবে, প্রস্তুত থাকুন: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নিশানা এবার মার্কিন-ইসরায়েলি ব্যাংকসহ গুগল, মাইক্রোসফটের অফিস

যুদ্ধাহত মোজতবা খামেনি ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন

ইরান-লেবানন থেকে ধেয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র, নির্ঘুম রাত কাটছে তটস্থ ইসরায়েলিদের

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানালেন উত্তর কোরিয়ার কিম জং-উন

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতার

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিছানো শুরু ইরানের, নজিরবিহীন পরিণতির হুমকি ট্রাম্পের