ইরানের সেনা দিবস উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি নতুন লিখিত বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই বার্তায় চলমান পরিস্থিতির সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিষয়—হরমুজ প্রণালি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সম্পর্কে কোনো উল্লেখ না থাকায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
টেলিগ্রামের মাধ্যমে দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী বিশ্বের সামনে তাদের (শত্রুদের) দুর্বলতা ও লাঞ্ছনা প্রকাশ করে দিয়েছে।
মোজতবা খামেনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের ড্রোনগুলো আমেরিকান ও জায়নবাদী অপরাধীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হানছে এবং দেশটির নৌবাহিনী শত্রুদের তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ দিতে প্রস্তুত।
খামেনি বর্তমান যুদ্ধকে ইরানের বিপ্লবী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব থেকে শুরু করে আগের দুটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাতকে তিনি একই সূত্রে গেঁথেছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে জনগণের হৃদয়ের সন্তান হিসেবে অভিহিত করেন।
মোজতবা খামেনি তাঁর প্রয়াত পূর্বসূরি এবং বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, আলী খামেনি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকেই সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে এবং এর সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের শুরুতে তাঁর বাবা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তাঁকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বার্তার শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। শান্তি আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যে তাঁর এই কঠোর ও আপসহীন বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেহরান এখনই যুদ্ধের ময়দান ছাড়তে রাজি নয়।