মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ন্যাটোর আদলে একটি আঞ্চলিক ইসলামি নিরাপত্তা জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়েদ মাজিদ ইবন রেজা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে—ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলা এমন একটি জোট আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাইরের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।
গত রোববার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন ইবন রেজা। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ইরানের এই কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তির উপস্থিতিকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে উঠলে বাইরের হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
এদিকে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডেরও নিন্দা জানান তিনি। ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইবন রেজা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যদি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন কোনো ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা করে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা অঞ্চলও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে বলে মত দেন রেজা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ফের সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের অনুরোধে আলোচনা চলছে এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশ এতে সহযোগিতা করছে। সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনার জন্য পাকিস্তান ইরানের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচিকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সফরের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।