হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের আইন ইসরায়েলের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: বিবিসি

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ একটি বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন অনুমোদন করেছে। গত সোমবার পাস হওয়া ওই আইনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে মৃত্যুদণ্ডকে স্বয়ংক্রিয় সাজা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালিসহ ইউরোপীয় দেশগুলো এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।

আল জাজিরা জানায়, বিলটি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সদস্যরা এর পক্ষে ভোট দেন। ৪৮ জন সদস্য এর বিরুদ্ধে ভোট দিলেও বাকিরা বিরত ছিলেন।

আইনটি মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক আদালত যদি কোনো ফিলিস্তিনিকে ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে’র মাধ্যমে প্রাণহানির জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন, তবে তাঁর সাজা হবে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ এই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এই আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো, এর প্রয়োগে দ্বিমুখী নীতি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, একই অপরাধের জন্য ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর হবে না। অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই আইন দুটি সমান্তরাল পথ তৈরি করেছে, যা কাঠামোগতভাবেই ইহুদি অপরাধীদের বাদ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করে।

পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় বিরোধীদলীয় সদস্য ও মোসাদের সাবেক উপপরিচালক রাম বেন বারাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা কি বুঝতে পারছেন এর অর্থ কী? পশ্চিম তীরের আরবদের জন্য এক আইন এবং অন্যদের জন্য অন্য আইন? এর মাধ্যমে আমরা আমাদের নৈতিক মূল্যবোধগুলো হারিয়েছি।’

নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকরের কথা বলা হয়েছে, যা বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে ইসরায়েল খুনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করেছিল। ১৯৬২ সালে হলোকাস্টের অন্যতম পরিকল্পনাকারী অ্যাডলফ আইখম্যানের পর ইসরায়েলে আর কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের ‘সন্ত্রাসবাদী’ সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা থাকায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর এটি প্রয়োগের ঝুঁকি রয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি যৌথভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই আইন ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং এটি আসলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।

এদিকে বিলটি পাস হওয়ার পরপরই ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আইনটি বাতিলের দাবিতে পিটিশন করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তাদের দাবি, এই আইন ইসরায়েলের ‘বেসিক ল’ বা মৌলিক আইনের বিরোধী, যা নির্বিচারে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।

কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই আইন পাসকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উদ্‌যাপন করেছেন। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন বলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।

যুদ্ধবিরতি নয়, সমাপ্তি চাই—আরাঘচির মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

এবার ইরানের মানসিক হাসপাতালে হামলা

ইরানের শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে: হেগসেথ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

যুদ্ধের বিল দিতে হবে আরব দেশগুলোকে, কত টাকা চাইতে পারেন ট্রাম্প

৩ কোটি ডলারের মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

৭২ বছর পর মৃত্যুদণ্ড ফেরাল ইসরায়েল, তবে শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য

লেবাননে আরও ৪ সেনা নিহতের কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

ইরানের স্কুলে এবার পরীক্ষামূলক নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মারল যুক্তরাষ্ট্র, নিহত অন্তত ২১

ইরানে ২০০০ পাউন্ডের ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা মেরেছে যুক্তরাষ্ট্র