হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে ২০ জনের মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাতের বেলায় ছয়তলা ভবনটি ধসে পড়লে অন্তত ২০ জন নিহত হন। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে নারী-শিশুসহ অন্তত ২০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৪ জন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক আটকা পড়েছেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাতের বেলায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে।

আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের বের করে আনছেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয়রাও হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভিডিওতে দেখা যায়, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।

একটি ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি ছোট মেয়েকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে দেখা যায়। এ সময় আরও শিশুসহ কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল-জাজিরাকে জানান, সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি আটকা রয়েছেন বলেও জানান মুখপাত্র।

মাহমুদ বাসাল আরও জানান, উদ্ধারকারী দলের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগের একটি বিমান হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলার পর ভবনটিতে ফাটল ধরেছিল এবং এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটিই ধসে পড়ে।

এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় এই ঘটনার জন্য ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘সম্পূর্ণ ও সরাসরি’ দায়ী করেছে। কার্যালয়টি বলেছে, ছয়তলা ভবনটিতে প্রতিটি তলায় চারটি করে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ভবনটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এতে ভবনটির কাঠামোগত দৃঢ়তা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি ধসে যায়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশেও ইসরায়েল বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

মুখপাত্র বাসাল বলেন, অনেক ফিলিস্তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, তাঁদের যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। শরণার্থী কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবুর অভাবেই তাঁদের এমন ভবনে থাকতে হচ্ছে, যা তাঁদের হুমকির মুখে ফেলছে।

এদিকে ধ্বংসস্তূপ নিরাপদে সরানো এবং উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশেও ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ভবন ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে মূলত হাতের সাহায্যে কাজ করতে হচ্ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে।

গাজা সিটির মেয়র ইয়াহইয়া আল-সাররাজ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি কোনো ভবনধসের প্রথম ঘটনা নয়। আমরা আশঙ্কা করছি, এটিই শেষ ঘটনাও নাও হতে পারে।’

মেয়র আরও জানান, সিটি করপোরেশন ও সিভিল ডিফেন্স ‘অচল’ হয়ে পড়েছে। মানুষকে উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের হাতে নেই।

এবার ‘অমাবস্যায়’ ইরানে হামলা করবেন ট্রাম্প, প্রস্তুত সেন্টকম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আইনপ্রণেতা, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত রোববার

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকটকে সমর্থনের ঘোষণা দিল আরব জোট

জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের সাবেক জেনারেলরা

ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা দিচ্ছে রাশিয়া

গাজার অঙ্গ হারানো ১১৩৪ শিশুকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েল

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি জোরালো হচ্ছে ইরানে, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে চাপ

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একমত ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো

হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বিকট বিস্ফোরণ, ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

বিরোধীদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা—কী হতে পারে নেতানিয়াহুর শেষ চেষ্টা