হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে বিক্ষোভকারীদের জন্য হাজার হাজার স্টারলিংক ডিভাইস পাচার করেছিলাম: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত। ছবি: এএফপি

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধের সময় বিক্ষোভকারীদের নেটওয়ার্ক সচল রাখতে দেশটিতে হাজার হাজার ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট রিসিভার পাচার করা হয়েছিল। এমন দাবি করেছেন খোদ ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত।

গতকাল মঙ্গলবার জেরুজালেমে আয়োজিত ‘জেএনএস ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিট’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গোপন অভিযানের কথা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘অযোগ্য’ সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিটি বন্ধ করে দিয়েছিল বলে তীব্র সমালোচনা করেন।

বেনেতের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল শান্তি আলোচনা চলছে।

নিজের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদে নেওয়া এই গোপন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে নাফতালি বেনেত বলেন, ইরানে যখনই কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভ শুরু হয়, তখনই দেশটির সরকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

বেনেত বলেন, ‘আমি এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম যার মাধ্যমে ইরানে হাজার হাজার স্টারলিংক রিসিভার কেনা এবং তা দেশটির ভেতরে পাচার করা সম্ভব হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানি প্রশাসন ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলেও যাতে বিক্ষোভকারীরা নেটওয়ার্ক সচল রাখতে পারে, নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে।’

তবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বেনেত বলেন, ‘তাদের অযোগ্যতার কারণে এই পুরো প্রকল্প ভেস্তে যায়। ফলে গত ডিসেম্বরের শেষে যখন ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হলো, তখন প্রয়োজনীয় এই প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সেখানে আর ছিল না।’

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, তা দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারি নাগাদ এই আন্দোলন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক গণবিক্ষোভে পরিণত হয়।

এই বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে।

যদিও বিক্ষোভকারীদের এই প্রাণহানির জন্য ইরানি পুলিশ ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে, তবে তেহরানের দাবি ছিল ভিন্ন। ইরানের অভিযোগ, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দেশের ভেতরে অনুপ্রবেশ করেছে এবং বিক্ষোভের আড়ালে তারা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করেছে। নাফতালি বেনেতের সাম্প্রতিক এই স্বীকারোক্তি ইরানের সেই দাবিকে নতুন করে উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বেনেতের এই দাবি এমন এক প্রেক্ষাপটে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর, বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছে।

এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার ইরানের ওপর থেকে বেশ কিছু কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ৬০ দিনের জন্য ইরানের তেল উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে শর্ত অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদকালে ইরানের সমস্ত তেল সংক্রান্ত বাণিজ্যিক লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে মার্কিন ডলারে সম্পন্ন করতে হবে।

তথ্যসূত্র: মিডলইস্টআই

হরমুজে আটকে আছেন ১১ হাজার নাবিক, উদ্ধারে বড় উদ্যোগ জাতিসংঘের

ইরানে ভূপাতিতের আগে এক রহস্যময় দৃশ্য দেখেন মার্কিন পাইলট

১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত ও তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে ইরান

সীমান্তের কাছেই মাটির নিচে ‘ড্রোন কারখানা’ আবিষ্কারের দাবি ইসরায়েলের

কাতারে এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১৩, বাংলাদেশিসহ আহত ৬৬

ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন—যুদ্ধে জিতেছে ইরান

কাতারের গ্যাস টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শেষ: আরও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি রোডম্যাপসহ যেসব সিদ্ধান্ত হলো

ট্রাম্পকে ইরানের হুঁশিয়ারি—হুমকি নয়, কথাবার্তায় সতর্ক থাকুন