হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

বাব এল-মান্দেবে জাহাজে হুতিদের হামলা, নিহত অন্তত ৬

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইয়েমেনের মখা বন্দরে হুতিদের হামলার পরের ছবি। ছবি: এএফপি

ইয়েমেনের পশ্চিমা বিশ্ব স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলা বা সামান্য বিরতি পরপর দুবার হামলা চালিয়ে হুতিরা অন্তত ছয়জনকে হত্যা এবং আরও ১০ জনকে আহত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার মিসরের মালিকানাধীন তিহামাহ জাহাজে হামলাটি চালানো হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজে হামলায় প্রাণহানির এটিই প্রথম ঘটনা। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হুতিরা বাণিজ্যিক জাহাজটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটির ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়। এতে তিন পাকিস্তানি নাগরিক ও এক ইন্দোনেশীয় নাগরিক নিহত হন।

ইয়েমেনের কোস্টগার্ড পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধারকারী কর্মীরা নিহত ও আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সময় হুতিরা জাহাজটিতে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। কোস্ট গার্ড বলেছে, ‘হামলাটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনার স্থানে আঘাত হানে এবং উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়া বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে হতাহত সৃষ্টি করে।’

দ্বিতীয় হামলায় অন্তত দুই সেনা নিহত হন। কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন জাহাজের ক্রু সদস্য।

ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি হুতিদের বিরুদ্ধে ‘নিন্দা থেকে কার্যকর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপে’ যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। প্রতিবেদনে জাহাজটির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার আরেকটি পৃথক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি জাহাজে তারা গুলি চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ভেলা নোভা নামের পণ্যবাহী জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে কোনো ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।

ইয়েমেনে এই উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা দেশটির গৃহযুদ্ধে হুতি এবং সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ঘটল। জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০২২ সালে হওয়া ওই যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে সৌদি আরবের বিমান হামলার পর। ওই হামলার ফলে হুতিদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী ইরানি একটি ফ্লাইট সেখানে অবতরণ করতে পারেনি।

এরপর হুতিরা দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে। তারা সৌদি জাহাজ ও দেশটির তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ ও কামারান দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। কামারান লোহিত সাগরে ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। হুতিরাও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী আল-মাখা (মোখা) এবং মধ্যাঞ্চলের মা’আরিব শহরও রয়েছে। এসব হামলায় কয়েক ডজন সেনা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেনের পশ্চিমা বিশ্ব স্বীকৃত সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অবস্থানে চালানো ধারাবাহিক হামলায় হুতিরা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তারা আল-মাখা এবং মধ্যাঞ্চলীয় মা’আরিব প্রদেশে ‘সৌদি সামরিক সমাবেশ, অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড পোস্টকে লক্ষ্য করে’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।