যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই কথা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে, তারা কূটনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তার একটি সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।
এর আগে গত রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছিল, তারা জানতে পেরেছে—যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জবাবে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘কোনো সীমাবদ্ধতা বা বিবেচনা ছাড়াই’।
ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি পুনরায় শুরুর জন্য নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বর্তমানে ইরানের প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা তাঁদের দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। তবে রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা যেতে পারে। তেহরানের প্রস্তাব ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফিরে আসার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি সুবর্ণ সুযোগ।’ তবে তেহরান কূটনীতি পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী হলেও এর জন্য ওয়াশিংটনকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান তিনি।