হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের মানুষ কেমন আছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কয়ারের একটি ভবনে স্থাপিত মার্কিন-বিরোধী বিলবোর্ড। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে। দেশটিতে নিত্যপণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী এবং কর্মসংস্থান হারাচ্ছে লাখো মানুষ। যুদ্ধের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতা জনজীবনকে করে তুলেছে বিপর্যস্ত।

গতকাল শনিবার (২ মে) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ইরানের বাজারে মুদ্রাস্ফীতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। খাদ্য, ওষুধ, গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেহরানের খোলাবাজারে প্রতি ১ ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার রিয়াল। বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় মুদ্রা লেনদেনও কমে গেছে।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে অন্য বাজারেও। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বুঝতে পারছেন না পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, নতুন পণ্য আসবে কি না, কিংবা আরও কত দাম বাড়তে পারে।

বাজারে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। অ্যাপলের ১ হাজার ২০০ ডলারের আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ইরানের বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি রিয়াল বা ২ হাজার ৭৫০ ডলারে। একইভাবে, ইরানে জনপ্রিয় ফ্রেঞ্চ গাড়ি ‘পিউজো ২০৬’-এর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি রিয়াল বা ১৬ হাজার ৫০০ ডলারে।

গত শুক্রবার (১ মে) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে গাড়ির বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এর জন্য বাজারের মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘ভুয়া দাম’ নির্ধারণকে দায়ী করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে ইরানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭ কোটি রিয়ালের (প্রায় ৯২ ডলার) কম। গত ২১ মার্চ পারস্য বর্ষপঞ্জি শুরুর সময় সরকার মাসিক ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছিল। ইরান সরকার জনপ্রতি মাসিক ১০ ডলার সমমূল্যের খাদ্য ভর্তুকিও দিয়ে থাকে।

তেহরানের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেতন ও পণ্যের দামের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। যা আয় করছি, তা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু কেনার চেষ্টা করছি, কারণ পরে হয়তো এগুলো আর কেনা সম্ভব হবে না।’

ইরানের ৯ কোটির বেশি মানুষের এই অর্থনৈতিক দুর্দশার পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। প্রথমত, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণ। স্থানীয় অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোতে ক্রমাগত বোমা হামলা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ-অবরোধ।

দ্বিতীয়ত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। ইরানে গত ৬৪ দিন ধরে ইন্টারনেট শাটডাউন চলছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ঠিক কত মানুষ কর্মহীন হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার তার কোনো বিস্তারিত দেয়নি। তবে তেহরানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ইসফাহানের বড় ইস্পাত কারখানা পর্যন্ত প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে।

গত শুক্রবার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সামরিক ক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে শত্রুদের পরাজিত করতে হবে।’

তিনি ব্যবসায়ী ও কারখানার মালিকদের যতটা সম্ভব কর্মী ছাঁটাই না করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, ইরান ‘উন্নতি ও অগ্রগতির শিখরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রথম দিনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে এখনো সরাসরি জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

ইসরায়েলের আতঙ্ক হিজবুল্লাহর নতুন অস্ত্র ‘ফাইবার অপটিক ড্রোন’

লেবাননে বাসাবাড়িতে লুটপাট চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা, উদ্বেগে কমান্ডাররা

গাজায় প্রতিনিয়ত ভূমি দখল করছে ইসরায়েল, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ হাজার মরদেহ

আকাশপথের সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করল আরব আমিরাত

যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফার বিপরীতে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যা আছে

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করছে ইরান

ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই

নোবেলজয়ী ইরানি মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ১৩

ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণে নাগরিকদের নিষেধ করল আমিরাত