হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে আরব দলগুলো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দী আইজেনকট জিতলে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী করার সুপারিশও করতে পারে দল দুটি। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন জয়েন্ট লিস্টের সাবেক প্রার্থী ও মোসাওয়া সেন্টারের পরিচালক জাফর ফারাহ।

ফারাহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে বলেন, আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে আইজেনকটের নাম সুপারিশ করবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে জয়েন্ট লিস্টের শরিক জাতীয়তাবাদী আরব দল বালাদের তিন এমপি এ প্রস্তাবে আপত্তি জানাতে পারেন।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পেয়েছে ১৯টি আসন। শুক্রবারের ভোট গণনার হিসাবে এ ফল পাওয়া গেছে। ফলে সরকার গঠনে দুই জোটের কাছেই আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন সমঝোতা ও দর-কষাকষিতে বসতে হবে।

ফারাহ বলেন, জয়েন্ট লিস্ট বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইজেনকটের নির্ধারিত চারটি শর্ত নিয়েও আলোচনা হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকার করা। তাঁর ভাষ্য, আলোচনার উদ্যোগ গোপনে শুরু হতে পারে এবং আনুষ্ঠানিক সুপারিশের পর তা প্রকাশ্যে আসতে পারে।

নির্বাচনের আগে জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ প্রার্থী ছিলেন ফারাহ। তবে ১৫ বছর আগের নারীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় তিনি প্রচারণার মাঝপথে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউসেফ জাবারিন। নির্বাচনের পর জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরি করতে তাঁরা প্রস্তুত।

দুটি আরব দলের মধ্যে তুলনামূলক রক্ষণশীল ও ধর্মভিত্তিক দল রা’আম ইতিমধ্যে ইহুদিবিরোধী জোটের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বামপন্থী নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। দলটির নেতারা রাজনৈতিক বাস্তবতার চেয়ে আদর্শিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে বিদেশি সহায়তায় নির্বাচনে কারচুপি করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

সরকার গঠনে আইজেনকটের চার শর্ত

সরকার গঠন করতে পারলে সব ইসরায়েলির প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দিয়েছেন আইজেনকট। আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে তাঁর জোটের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানালেও তিনি সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য চারটি শর্ত দিয়েছেন।

শর্তগুলো হলো—

ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং সমতার প্রতি অঙ্গীকার।

ইসরায়েলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার।

সব নাগরিকের জন্য সামরিক, জাতীয় অথবা বেসামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা।

হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি এবং গাজা উপত্যকায় সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা ও শাসনক্ষমতা ধ্বংসের অঙ্গীকার।

মোসাওয়া সেন্টারের পরিচালক ফারাহ বলেন, এসব শর্ত আরব দলগুলোকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মতে, শর্তগুলোর অধিকাংশই নতুন কিছু নয়। নেসেটের সদস্যদের আগে থেকেই ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রতি সমর্থন জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া হামাসকে যেকোনোভাবে সমর্থন করাও অবৈধ।

তবে শর্তগুলোর মধ্যে আইনের চোখে সমতা এবং আরব নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন ফারাহ। তিনি বলেন, ইসরায়েলের কিবুতজ ও অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের নিজস্ব বেসামরিক সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আরব নাগরিকেরাও হাসপাতাল ও নিজস্ব সম্প্রদায়ে সেবামূলক কাজে অংশ নিতে চান। কিন্তু তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান নেই। আরব নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো সরকারি ভর্তুকির মাত্র ২ শতাংশ পায়।

ফারাহ জানান, আইজেনকট ও বিরোধী জোট আলোচনার আহ্বান জানালে আরব দলগুলো তাতে অংশ নেবে। তবে তিনি মনে করেন, ডানপন্থীদের প্রবল বিরোধিতার কারণে যৌথ আরব-ইসরায়েলি সরকার গঠন কঠিন হবে। আইজেনকট এ ধরনের সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে তাঁর জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ১৯৯৫ সালে আততায়ীর হাতে নিহত ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক রবিনের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন ফারাহ।

ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবিতে মিছিল

ইহুদি-আরব যৌথ সরকার গঠনের দাবিতে শনিবার রাতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। ইহুদি-আরব তৃণমূল সংগঠন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ জানিয়েছে, তেল আবিব, জেরুজালেম, বিয়ারশেবা, হাইফা ও তাইয়েবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকেরা বলেন, বিরোধী জোটের নেতাদের নির্বাচনী ফল মেনে নিয়ে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে হবে। পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি ও আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নতুন সরকারে নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, আরব ও ইহুদিদের ভোটের মূল্য সমান এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরব নাগরিকদের পূর্ণ অংশীদারত্ব থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে

আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের পাশাপাশি মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোর সমঝোতায় ইহুদি দলগুলোর একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা নেতানিয়াহু। কারণ, ইহুদি বিরোধী জোটের চারটি দলই নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে এখন তাঁর সঙ্গে সমঝোতা করা রাজনৈতিকভাবে কঠিন।

নেতানিয়াহু বিরোধী জোটের ডানপন্থী অংশকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আটকে দিয়ে আরেকটি নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি করাও তাঁর সম্ভাব্য কৌশল।

এদিকে লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোকে ইসরায়েলবিরোধী উগ্রপন্থী, এমনকি সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রিত করে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা খর্ব করার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। দলটি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধান সম্পর্কে ফারাহ বলেন, নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরব দলগুলোর অনানুষ্ঠানিক সমর্থনে একটি সংখ্যালঘু বিরোধী সরকার গঠিত হতে পারে। বিচারপ্রক্রিয়া আগামী বসন্তকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও তিনি ধারণা করছেন। ফারাহর ভাষ্য, ‘২০২৭ সালে যদি বিবি (নেতানিয়াহু) দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তারা একটি জাতীয় (ইহুদি) সরকার গঠন করবে।’

দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে রাজি ইরান, দিল ৭ শর্ত

শত্রুর হামলার জবাব দিতে কোনো ভৌগোলিক সীমানা মানা হবে না: মোজতবা খামেনি

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে শতাধিক বন্দরে ধর্মঘট

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের ১২ জনকে হারান হামেদ

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল প্রকাশ: আরব দলগুলোর রেকর্ড ১৯ আসন, নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের কতটা

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে

ফের মার্কিন হামলা হলেও কয়েক মাস টিকে থাকার খাদ্য-জ্বালানি মজুত আছে ইরানের

‘দুই শয়তানের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম শয়তানকে’ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান গাজাবাসী

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনায় ইসরায়েলের বিরোধীরা

অনাক্রমণ চুক্তি ও হুতিদের নিয়ন্ত্রণসহ তেহরানে যা আলোচিত হয়েছে ইরান–মক্কা জোটের মধ্যে