হোম > বিশ্ব > লাতিন আমেরিকা

মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে লড়তে মার্কিন সামরিক সহায়তা চাইল কলম্বিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মাদককেন্দ্রিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো। ছবি: সংগৃহীত

মাদক কার্টেল ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা।

গত ৭ আগস্ট কলম্বিয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন এই প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনী প্রচারে দেশটির মাদককেন্দ্রিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে আগ্রাসী ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ‘এল তিগ্রে’ (দ্য টাইগার) নামেও পরিচিত আবেলার্দো।

ক্ষমতায় এসেই মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন এই প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের রাখার জন্য এল সালভাদরের আদলে বিশাল সব ‘মেগা প্রিজন’ বা মেগা কারাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে গত বুধবার পানামায় আমেরিকা মহাদেশের কাউন্টার-কার্টেল কোয়ালিশনের এক সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, মাদক-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কলম্বিয়া ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক সাম্রাজ্যের হোতাদের ধরতে ও হত্যা করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তাদের ইঁদুরের মতো শিকার করব।’

সম্মেলনে কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোর্হে এদুয়ার্দো মোরা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের মাদক পাচারবিরোধী ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ জোটের ১৯তম সদস্য হয়েছে কলম্বিয়া।

কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকার কয়েকটি মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এই তকমা দেওয়ার পর ওই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও বেড়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশাসন কয়েক ডজন নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব নৌযান ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ছিল। এসব হামলায় অন্তত ২২১ জন নিহত হয়েছেন।

কলম্বিয়ার আগের প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক হামলার কঠোর সমালোচক ছিলেন। পেত্রোর শাসনামলে কলম্বিয়াকে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগের বাইরে রাখা হয়েছিল।

চলতি বছরের শুরুতে পেত্রো বলেছিলেন, ‘কাউকে হত্যা না করেই পণ্য জব্দ করার জন্য কলম্বিয়ার কাছে সবচেয়ে অত্যাধুনিক গোয়েন্দা সক্ষমতা রয়েছে।’

পেত্রো এই জোটটিকে প্রথম দিকে ‘কোকেন মোকাবিলায় অভিজ্ঞতাহীন ১৭টি ছোট ও দুর্বল দেশের’ জোট হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, জোটের নামের ‘ঢাল’ শেষ পর্যন্ত ‘ছিদ্র হয়ে যাবে’।