ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাতে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০০ জন। রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথমে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম—৩৯ সেকেন্ডের মাথায়—৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ইউএসজিএসের পূর্বাভাসভিত্তিক মডেল অনুযায়ী, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে। এমনকি মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে লাখের কাছাকাছি হওয়ারও উল্লেখযোগ্য আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টার কিছু আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, প্রাথমিক হতাহতের হিসাবের মধ্যে কারাকাসের কাছের লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। শহরের বিমানবন্দর অবস্থিত এই অঞ্চলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডজনখানেক ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।’
শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সত্যিকারের জাতীয় ট্র্যাজেডি। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে। এ সময় সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্প ভয়াবহ মাত্রার এবং এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সহিংস অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকা থেকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বারুতা জেলার মেয়র জানিয়েছেন, দুটি ভবন ধসে সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন। চাকাও জেলার মেয়র গুস্তাভো দুকে বলেন, তাঁর এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন এবং চারটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাতভর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। অনেক পরিবার এখনো তাঁদের স্বজনদের খোঁজ করছেন। পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা মারিয়া আলেহান্দ্রা বলেন, ‘নিচে নেমে মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভয়াবহ চলচ্চিত্রের দৃশ্য দেখছি। ধ্বংসস্তূপ টপকে বের হতে হয়েছে। কিন্তু পাশের ভবন থেকে আমি শুধু একটি পরিবারকে বের হতে দেখেছি।’
ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটির মেরিদা ও কারাকাস শহরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।