গত জুনে ভেনেজুয়ায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। গতকাল সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে হালনাগাদ এ তথ্য জানান জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ। ভূমিকম্পে আহত ৬১ হাজার মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলা সরকার যখন ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যর্থতার অভিযোগে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে রয়েছে, তখনই এই তথ্য প্রকাশ করা হলো।
ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষ যখন স্বজন ও নিখোঁজদের খোঁজে দিশেহারা, তখন অনেকেই ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ব্যর্থতার জন্য সরকার ও সামরিক বাহিনীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হোর্হে রদ্রিগেজ আরও জানান, ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ সরানো সম্ভব হয়েছে।
তবে এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভূমিকম্পের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরো আমলের বেশ কিছু মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অর্থের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছাতে বহাল থাকা এসব নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।