প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়ায় জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে অতিরিক্ত সামরিক সদস্য মোতায়েন, ত্রাণ সহায়তা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ভেনেজুয়ায় প্রশাসনের ‘বন্ধুদের’ সহায়তায় পেন্টাগন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—জীবন রক্ষা করা এবং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গোলার্ধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যখন আমাদের বন্ধুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তখন আমেরিকা এগিয়ে আসে।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জরুরি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভেনেজুয়াকে ১৫ কোটি ডলার পাঠানো হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমকে সমর্থন দিতে মাঠপর্যায়ের উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড (SOUTHCOM) জানিয়েছে, ভেনেজুয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, তারা এ উদ্যোগে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাহিনী’ নিয়োজিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি উভচর পরিবহন জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজ। সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, এসব বাহিনী ভেনেজুয়ায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মী, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা মার্কিন সংস্থাগুলোকে সহায়তা করবে।
তবে এই সহায়তা কার্যক্রম এমন এক সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারির সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে কারাবন্দি করার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি, তারা ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়িয়েছে।
এর পরের মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেল রপ্তানি তদারকি করেছে এবং জাতীয়করণ করা জ্বালানি ও খনিখাত সংস্কারের জন্য চাপ দিয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়ায় সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও মন্ত্রিসভার একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ট্রাম্প প্রশাসন পুরো পশ্চিম গোলার্ধকে নিজেদের প্রভাববলয় হিসেবে দেখে এবং উনিশ শতকের সম্প্রসারণবাদী ‘মনরো ডকট্রিন’-এর নতুন ব্যাখ্যা হিসেবে ‘ডনরো ডকট্রিন’ ধারণা সামনে এনেছে।