জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে জয়শঙ্করের নিউইয়র্ক পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু বিমান পরিষেবা স্থবির হয়ে পড়ায় মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস (ডিএসএস) সড়কপথের বিকল্প বেছে নেয়। মার্কিন-কানাডা সীমান্তের লুইস্টন-কুইনস্টন ব্রিজে ভারতীয় মন্ত্রীকে গ্রহণ করেন মার্কিন এজেন্টরা। সেখান থেকে শুরু হয় ম্যানহাটনের উদ্দেশ্যে টানা সাত ঘণ্টার এক দীর্ঘ যাত্রা।
সম্প্রতি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) চলাকালীন এক নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সড়কপথে ৪১৬ মাইল (প্রায় ৬৬৯ কিলোমিটার) পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছাতে হয় তাঁকে।
এই অপারেশনটি সফল করতে ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিসের মোট ২৭ জন এজেন্ট অংশ নেন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক ও বাফেলো ফিল্ড অফিসের কর্মকর্তারাও ছিলেন। ভারতের জাতিসংঘ মিশন, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং মার্কিন সীমান্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হিমাঙ্ক তাপমাত্রা এবং অত্যন্ত কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও জয়শঙ্করের কনভয় যাত্রা অব্যাহত রাখে।
যাত্রাপথে একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ডগ স্কোয়াডের একটি কুকুর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাঁজোয়া যানে বিস্ফোরকের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে সংকেত দেয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি ঘিরে ফেলেন নিরাপত্তা কর্মীরা। পরে স্থানীয় টেকনিশিয়ানদের দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশির পর গাড়িটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয় এবং পুনরায় যাত্রা শুরু হয়।
নিউইয়র্ক সিটিতে পৌঁছানোর ঠিক আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় কনভয়টি। সেখানে এক নারী ‘হিট অ্যান্ড রান’ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। নিরাপত্তা দলের একজন এজেন্ট দ্রুত তাঁর সহায়তায় এগিয়ে যান। অন্য এজেন্টরা স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন এবং জরুরি পরিষেবার জন্য পথ পরিষ্কার করে দেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আকস্মিক ঘটনার কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা বা পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়েই জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দিতে সক্ষম হন এস জয়শঙ্কর।
উল্লেখ্য, ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস মূলত মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি শাখা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে।